হস্তমৈথুন করছেন, তা বন্দ করতে পারছেন না তাহলে পোস্টটি পড়ুন

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

হস্তমৈথুন বলতে হাত দ্বারা মৈথুনকে বুঝায়। অর্থাৎ হাতকে কোন মেয়ের গোপনাঙ্গ হিসেবে কল্পনা করে লিঙ্গ সঞ্চালন করে বীর্যপাত ঘটানো বুঝায়। বীর্যপাতের পর বলে হায় হায় এটা করা ঠিক হয়নি…! হযরত জাবির রাঃ হতে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম ইরশাদ করেন, “কত নিকৃষ্ট ঐ ব্যক্তি, যে হাতের সাথে হস্তমৈথুন করে।

 

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ, উনার মজলিস শেষে একদিন সবাই চলে যাওয়ার পর এক যুবক বসে রইলো। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী চাই? সে বললো, আমি একটা মাসআলা জিজ্ঞেস করতে চাই। আগে লোকলজ্জার কারণে বলি নাই। তিনি বলেন, আলেমের কাছে অকপটে যেকোনো মাসআলা সম্পর্কে বলতে পারো। সে বললো, আমি যুবক মানুষ, আমার কোন স্ত্রী নেই তাই হস্তমৈথুন দ্বারা যৌনক্ষুধা নিবারণ করি। এটা কি গুনাহ? আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ এ কথা শুনে চেহারা ঘুরিয়ে ফেললেন এবং বললেন, ছি! এর চেয়ে তো বাঁদীর সাথে বিয়ে করে নেয়াই তোমার জন্যে শ্রেয়। সুতরাং বুঝা গেলো যে হস্তমৈথুন হারাম। (আল – হাদীস)

 

হস্তমৈথুন ছেলে ও মেয়ে সকলের জন্যই হারাম। ইমাম শাফেয়ী কুরআনের এই আয়াতের মাধ্যমে একে হারাম বলেছেন।

 

“এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে তাদের স্ত্রী ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না। অতঃপর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা সীমালংঘনকারী হবে। ”
(সূরা মু’মিনুনঃ আয়াত ৫-৭)

 

উক্ত আয়াতে নিজ স্ত্রী ও দাসী ব্যতীত সকল প্রকার অবৈধ যৌনাচারণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে যার মধ্যে হস্তমৈথুনও অন্তর্ভুক্ত । আর যে এটাকে অমান্য করবে সে সীমা লঙ্ঘনকারী।

 

“যারা বিবাহে সামর্থ নয়, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে যে পর্যন্ত না আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেন। ”
(সূরা আন নুরঃ আয়াত ৩৩)
এখানে যারা বিবাহে সমর্থ্য নয় তাদের ধৈর্য্য ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ তিনি বলেন, আমরা যুবক বয়সে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম; অথচ আমাদের কোন কিছু (সম্পদ) ছিল না। এমনি অবস্থায় আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে ও যৌনতাকে সংযমী করে এবং যাদের শাদী করার সামর্থ্য নেই, সে যেনো রোযা পালন করে। কেননা, রোযা তার যৌনতাকে দমন করবে। (বুখারী শরীফ ৪৬৯৬ ইফা)

 

সুতরাং যারা বিয়ে করার সামর্থ্য না রাখে তাদের সংযম করা ছাড়া কোন পথ নেই। এটাই ঈমানের পরীক্ষা। হস্তমৈথুনের বিষয়টিতো শরীয়ত সুনিশ্চিত নিষিদ্ধ করেছে। আর জমহুর ফুক্বাহারা এটাকে না জায়েজ বলেছেন।
(খুলাসাতুল ফাতওয়া-১/২৬)

 

হস্তমৈথুন থেকে বাঁচার উপায়ঃ
১। সম্ভব হলে প্রাপ্তবয়স্ক হলে বিয়ে করে নেওয়া
২। কোন কারণে লিঙ্গ উত্তেজিত হলে হাত দ্বারা স্পর্শ করবে না ।
৩। একা একা অলস সময় কাটাবেন না। ছোট বড় যেকোন একটা কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।
৪। খারাপ ছবি দেখবে না।
৫। নামায মিস দিয়েন না।
৬। বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরন করুন।

 

বলুন “ইয়া আল্লাহ, অশ্লীলতাথেকে বাঁচার জন্য আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি”।

Post Credit

Author Details

আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার তৌফিক দান করো।আমরা যেন তোমার পথে চলতে পারি সেই তৌফিক ও দাও।

Related Posts

Post thumbnail
11 months ago

হস্তমৈথুনে শারীরিক এবং মানসিক কি কি সমস্যা হতে পারে দেখুন

ইসলামের দৃষ্টিতে এটা হারাম এবং কবীরা গুনাহ।শরীয়ত অনুযায়ী যারা হস্তমৈথুন করে তারা সীমালংগনকারী। শারীরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।  ...

Post thumbnail
9 months ago

সমকামিতা কী এবং এর বিধান কী?

সমকামিতা কী? —————– সমকামিতা হচ্ছে একজন পুরুষের সাথে পুরুষ এবং একজন নারীর সাথে নারী কামবশত: কোন অশ্লীল কাজে জড়িয়ে পড়া।...

Leave a Reply

Comment has been close by Administrator!