নিরপরাধ মানুষ হত্যা সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেন

নিরপরাধ মানুষ হত্যা সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেন,
مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا
যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করে অন্য প্রাণের বিনিময় ব্যতীত, কিংবা তার দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠে কোন ফিতনা-ফাসাদ বিস্তার ব্যতীত, তাহলে সে যেন সমস্ত মানুষকে হত্যা করে ফেলল; আর যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে বাঁচাল, তাহলে সে যেন সমস্ত মানুষকে বাঁচাল। (আল-মায়েদা, ৫/৩২)

 
হত্যা সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা আরো বলেন,
وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ ۗ وَمَنْ قُتِلَ مَظْلُومًا فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِ سُلْطَانًا فَلَا يُسْرِفْ فِي الْقَتْلِ ۖ إِنَّهُ كَانَ مَنْصُورًا
আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা কর না; কেহ অন্যায়ভাবে নিহত হলে তার উত্তরাধিকারীকে আমি প্রতিশোধ গ্রহণের অধিকার দিয়েছি। সুতরাং হত্যার ব্যাপারে সে যেন সীমালঙ্ঘন না করে; নিশ্চয় সে হবে সাহায্যপ্রাপ্ত। (আল-ইসরা, ১৭/৩৩)

 
হাদীছে এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী (সঃ) ইরশাদ করেন;
لاَ يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلاَّ بِإِحْدَى ثَلاَثٍ النَّفْسُ بِالنَّفْسِ وَالثَّيِّبُ الزَّانِي، وَالْمَارِقُ مِنَ الدِّينِ التَّارِكُ الْجَمَاعَةَ
কোন মুসলিম যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। তিনটি কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করা বৈধ নয়। ১। প্রাণের বদলে প্রাণ। ২। বিবাহিত ব্যভিচারী। আর ৩। দ্বীন ইসলাম পরিত্যাগ করে মুসলিমদের দল পরিত্যাগকারী ব্যক্তি। (সহীহুল বুখারী: ৬৮৭৮; সহীহ মুসলিম: ৪২৬৭)

 
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَٰهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ ۚ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَٰلِكَ يَلْقَ أَثَامًا
আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে ডাকে না, আর আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তারা তাকে হত্যা করে না, এবং ব্যভিচার করে না আর যে ব্যক্তি এগুলি করবে, সে শাস্তি ভোগ করবে (ফুরকান, ২৫/৬৮)

 
এ প্রসঙ্গে সহীহ হাদীছে আরও এসেছে,
فَوَاللَّهِ مَا قَتَلَ رَسُولُ اللَّهِ قَطُّ، إِلاَّ فِي إِحْدَى ثَلاَثِ خِصَالٍ
আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিনটি কারণের কোন একটি ব্যতীত কাউকে হত্যা করেন নাই।
رَجُلٌ قَتَلَ بِجَرِيرَةِ نَفْسِهِ فَقُتِلَ، أَوْ رَجُلٌ زَنَى بَعْدَ إِحْصَانٍ، أَوْ رَجُلٌ حَارَبَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَارْتَدَّ عَنِ الإِسْلاَمِ
কোন ব্যক্তিকে হত্যা করা হলে তার প্রাণের বিনিময় হত্যা করা অথবা কোন ব্যক্তি বিয়ের পর যিনা করে, অথবা কোন ব্যক্তি আল্লাহও তাঁর রাসূল–এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ও ইসলাম থেকে ফিরে মুরতাদ হয়ে যায়। (সহীহুল বুখারী: ৬৯০০)

 
হত্যার শাস্তি সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا
আর যে কেহ ইচ্ছাকৃত কোন মুমিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিদান হচ্ছে জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর আল্লাহ তার উপর ক্রুদ্ধ হবেন, তাকে অভিশাপ করবেন এবং তার জন্য বিশাল আযাব প্রস্তুত করে রাখবেন। (আন-নিসা, ৪/৯৩)

 
অত্র আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কোন ব্যক্তি কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করলে আল্লাহ তার জন্য চারটি বিষয় নির্ধারণ করেন।
(১) এরূপ ব্যক্তি জাহান্নামে চিরকাল থাকবে।
(২) এমন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন। আর যার প্রতি আল্লাহ ক্রুদ্ধ হন, সে আল্লাহর রহমত ও দয়ার আশা করতে পারে না।
(৩) এরূপ ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ অভিশাপ করেন। আর যার প্রতি আল্লাহ অভিশাপ করেন, সে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হবে।
(৪) এমন ব্যক্তির জন্য আল্লাহ ভয়াবহ শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন।

 
হাদীছে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন:
لاَ تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا، يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ
আমার পরে তোমরা একে অপরের গর্দান কেটে (অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে) কুফরীর দিকে ফিরে যেও না। (সহীহুল বুখারী: ৭০৭৭, ৭০৭৯, ৭০৮০, ৬১৬৬, ৬৮৬৮, ৬৮৬৯; সহিহ মুসলিম: ১২৬, ১২৮)

 
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ يُعَذِّبُ الَّذِينَ يُعَذِّبُونَ النَّاسَ فِي الدُّنْيَا
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাদেরকে শাস্তি দিবেন যারা পৃথিবীতে (অন্যায়ভাবে) মানুষকে শাস্তি দেয়। (সহিহ মুসলিম, হা/৬৫৫২, ৬৫৫৪)

 
অপর একটি বর্ণনায় এসেছে, ইবনু উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন:
لَنْ يَزَالَ الْمُؤْمِنُ فِي فُسْحَةٍ مِنْ دِينِهِ، مَا لَمْ يُصِبْ دَمًا حَرَامًا
মুমিন ব্যক্তি তার দীনের ব্যাপারে সর্বদা অবকাশের মধ্যেই থাকে যে পর্যন্ত না সে নিষিদ্ধ রক্তপাত ঘটায়। (বুখারী: ৬৮৬২)

 
হাদীছে এসেছে, আবুদ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘আল্লাহ হয়তো সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। কিন্তু তাঁর সাথে শিরককারী বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মুমিন ব্যক্তিকে হত্যাকারীর গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করবেন না’। (আবু দাঊদ: ৪২৭০, হাদীছ ছহীহ)

 
ইমাম ইবনে হাযম রহ. বলেন: সময় মত স্বলাত আদায় না করা এবং অন্যায়ভাবে কোন মুমিন ব্যক্তিকে হত্যা করা; শিরকের পর সব চেয়ে বড় গুনাহ। (কিতাবুল কাবায়ির লিযযাহাবী পৃ.২৬)

 
অন্য বর্ণনায় এসেছে, ওবাদা ইবনুছ ছামেত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কোন মুমিন ব্যক্তিকে হত্যা করবে, আল্লাহ তা’আলা তার কোন নফল ও ফরয ইবাদত কবুল করবেন না’। (আবু দাঊদ, হাদীছ ছহীহ)

 
আব্দুল্লাহ বিন ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহর নিকট সারা দুনিয়া ধ্বংস হওয়ার চাইতেও গুরুতর বিষয় হচ্ছে, কোন মুসলিমকে হত্যা করা”। (তিরমিযীঃ ১৩৯৫; নাসাঈঃ ৩৯৮৭; ইবনু মাযাহঃ ২৬৬৮)।

 
আবুদ্দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, ’মুমিন ব্যক্তি নেককার হিসাবে বিদ্যমান থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা না করবে’। সিলসিলা ছহীহা, হা/৫১১)

 
কোন মুসলিম ভাইয়ের দিকে অস্ত্র তাক করাও ইসলামে নিষিদ্ধ
হাদীছে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন,
سِبَابُ المُسْلمِ فُسُوْقٌ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ
কোন মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসিকী (গুনাহের) কাজ এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরী। (সহীহুল বুখারী: ৪৮, ৬০৪৪, ৭০৭৬, সহীহ মুসলিম: ১২৪)

 
এ হাদীছ দ্বারা বুঝা যায়, ইসলামে অন্যায়ভাবে নির্দোষ ও নিরপরাধ ব্যক্তির সাথে লড়াই করা হারাম করা হয়েছে। এমনকি কোন মুসলিম ভাইয়ের দিকে অস্ত্র তাক করাও ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন:
مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلاَحَ فَلَيْسَ مِنَّا
যে ব্যক্তি আমাদের উপর অস্ত্র উত্তোলন করবে সে আমাদের দলভূক্ত নয়। (সহীহুল বুখারী: ৭০৭০, ৭০৭১, ৬৮৭৪ সহিহ মুসলিম: ১৮১, ১৮৩, ১৮৪)

Author Details

Hard work can bring a smile on your face.

Related Posts

Post thumbnail
11 months ago

ঈমানকে তাজা রাখার জন্যে প্রতিদন কুরআনের চর্চা ও অর্থ জানা জরুরি

আমরা লক্ষ্য করছি প্রতিটি রমজান মাসে বাড়িতে বাড়িতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে পেরিত আসমানি কিতাব কুরআনুল কারিমের চর্চা...

2 weeks ago

সূরা ইখলাসের ফজিলত ও বরকত

১. সুরা ইখলাস কুরআন শরীফের সবচেয়ে সম্মানিত সুরার মধ্যে একটি। যে ব্যক্তি একবার সূরা ইখলাস পাঠ করবে সেই ব্যক্তি কুরআনুল...

Leave a Reply

Comment has been close by Administrator!