হযরত ওমর রাঃ. তখন খলিফাতুল মুসলিমিন

একরাতে হযরত আলী রাঃ. স্বপ্নে দেখছেন হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের ইমামতিতে মসজিদে নববীতে নামাজ আদায় করছেন।
নবীজী (সাঃ) নামাজ আদায় করে ছালাম ফিরিয়ে মুক্তাদিদের দিকে ফিরে বসেছেন দোয়া পড়ছেন। হযরত আলীও রাঃ. মাসনুন দোয়া পড়ে বেড়িয়ে পরেন। মসজিদের দরজার কাছে এসে দেখেন এক বুড়ি একটি পাত্র হাতে দরজার কাছে দাঁড়ানো।

 

বুড়ি হযরত আলীকে রাঃ. বললেন আবার ভিতরে যাও। এই পাত্রের মধ্যে যত খোরমা দেখতে পাচ্ছো তা আমার বাগানের। ভিতরে গিয়ে রাসুল (সাঃ) কে দিয়ে বলো তিনি যেন এই খোরমা খান এবং সাহাবাদের মধ্যে বন্টন করে দেন। রাসূল (সাঃ) আমার বাগানের খোরমায় হাত দিলে আল্লাহ্ আমার বাগানের খোরমায় বরকত দিবেন।

 

হযরত আলী রাঃ. মসজিদের ভিতরে চলে গেলেন এবং নবীজী (সাঃ) কে পুরো ঘটনা খুলে বললেন। নবীজী (সাঃ) পাত্রের ভিতর থেকে একটি খোরমা তুলে নিয়ে হযরত আলীর মুখের মধ্যে দিয়ে দিলেন।
হযরত আলী রাঃ. রাসূল (সাঃ) এর দেয়া খোরমা খাচ্ছেন এমন সময় মসজিদে নববীর আজানের ধ্বনি তাঁর কানে গেলো।
“আসসালাতু খাইরুম মিননাউম”

 

তাঁর ঘুম ভেঙ্গে গেলো। ঘুম ভেঙ্গেছে ঠিকই রাসূলের (সাঃ) দেয়া খোরমার স্বাদ তখনো তাঁর মুখে লেগে ছিলো।
ওজু করে তরিঘড়ি করে মসজিদে নববীতে গিয়ে দেখেন ইমামতির জায়গায় হযরত ওমর রাঃ দাড়ানো।

 

নামাজ শেষ করে হযরত ওমর রাঃ. মুক্তাদিদের দিকে ফিরলেন এবং হযরত আলীও রাঃ.মাসনুন দোয়া পড়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে পড়লেন। বেড়িয়েই দেখেন মসজিদের দরজায় দাড়িয়ে আছে এক বুড়ি।হাতে একখানা খোরমা বোঝাই পাত্র।
বুড়ি বলছেন, আলী আবার ভিতরে যাও। এগুলি আমার বাগানের খোরমা। আমীরুল মোমিনীনকে দাও। তিনি খাবেন এবং সাহাবাদেরকে দিবেন। আমার নতুন বাগানের খোরমায় আল্লাহ্ বরকত দিবেন।
হযরত আলী রাঃ. ভাবছেন, ‘স্বপ্নে যা দেখেছি তা বাস্তবেও হচ্ছে’। তিনি ভিতরে গেলেন, হযরত ওমরকে রাঃ. খোরমার পাত্রটি দিলেন এবং এক বুড়ি হাদিয়া সূরুপ দিয়েছে তা খুলে বললেন।

 

হযরত ওমর রাঃ. বাম হাতে পাত্রটি নিয়ে ডান হাতে একটি খোরমা উঠিয়ে হযরত আলীর রাঃ. মুখের মধ্যে দিয়ে দিলেন। হযরত আলী রাঃ খোরমা খেয়ে দেখলেন অন্যান্য খোরমার চেয়ে এই খোরমা খুবই সুস্বাদু। তিনি বললেন হে ওমর! তুমি আমাকে আরো একটি খোরমা দাও। আমাকে যদি দু-একটা খোরমা বেশি দাও কারো ভাগে কম পড়বে না, পাত্র ভরাই তো খোরমা। দাও না একটা বেশি।
হযরত ওমর রাঃ. বললেন হে আলী! যদি স্বপ্নের মধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তোমাকে একটার বেশি খোরমা দিতেন আমিও তোমাকে একটার বেশি খোরমা দিতাম। হযরত আলী রাঃ আশ্চর্য হয়ে গেলেন। স্বপ্নতো আমি দেখেছি। এটাতো কারো জানার কথা নয়।

 

হযরত আলী রাঃ বলেন হে ওমর! এটা কি সেই স্বপ্ন যা আমি দেখেছি তুমিও তাই দেখেছো এবং আমাকে বলছো নাকি গায়েব থেকে জেনেছো? তুমি কি ভাবে জানলে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) স্বপ্নে আমাকে একটা খোরমা দিয়েছিলেন।
হযরত ওমর রাঃ. বললেন, হে আলী! আল্লার কসম! এটা স্বপ্নও নয় এটা গায়েব থেকেও আমাকে জানানো হয়নি!
“প্রকৃত শিক্ষাঃ যখন একটি মানুষের পা থেকে মাথা পর্যন্ত অর্থাৎ আপদমস্তক আল্লার জন্য হয়ে যায়, সে আল্লার সাহায্যেই সবকিছু দেখতে পায়”

Author Details

Hard work can bring a smile on your face.

Related Posts

Post thumbnail
12 months ago

আবূ যর (রা:)-এর ইসলাম গ্রহণ

আবু জামরাহ (রা 🙂 হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুললাহ ইবনু আব্বাস (রা:) আমাদেরকে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে আবূ যর (রা:)-এর...

Post thumbnail
9 months ago

একদা হযরত ওমর ফারুক (রা:)

একদা হযরত ওমর ফারুক (রা:) মদীনার কোন এক গলিপথ দিয়ে হেঁটে চলছিলেন। হঠাৎ একটি যুবকের প্রতি তাঁর দৃষ্টি পড়ে গেল।...

Leave a Reply

Comment has been close by Administrator!