যে কোন প্রান্ত থেকে আপনার লেখা পাঠাতে অথবা প্রশ্ন করতে এখানে ক্লিক করুন

সর্বশেষঃ

জেনে নিন গীবত করার পরিনাম ও ভয়াবহতা


মহান আল্লাহ পাক গীবতের ভয়াবহতা প্রসংগে বলেন, সীমাহীন অমঙ্গল রয়েছে এমন ব্যক্তির জন্য, যে কারো অগোচরে নিন্দা করে( গিবত করে) এবং সাক্ষাতে ধিক্কার দেয়। [ সুরা হুমাযাহ : ১ ]

রাসুল স: ইরশাদ করেছেন, গীবত যিনার তুলনায় নিকৃষ্টতর গুনাহ। সাহাবায়ে কেরামগন আরয করলেন,ইয়া রাসুল আল্লাহ! গীবত কি করে যিনার তুলনায় খারাপ হতে পারে ? রাসুল স: বললেন, মানুষ যিনা করে তওবা করলে আল্লাহ পাক তওবা কবুল করেন। কিন্তু গীবতকারীকে আল্লাহ পাক ততক্ষণ পর্যন্ত মাফ করবেন না, যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি মাফ করেছে যার নামে সে গীবত করেছে। [ মিশকাতুল মাসাবিহ ২/৭০৫, হাদিস ৪৬৩০ ]

হযরত আনাস রা: হতে বর্নিত।রাসুল স: ইরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যখন আমাকে উর্ধ্বাকাশে (মিরাজে) নিয়ে গেলেন, তখন আমি সেখানে এমন লোকদের দেখেছি যাদের আংগুলের নখ তামার তৈরি। তারা সেখানে নখ দ্বারা তাদের চেহারা ও সীনায় আচর কাটে ও চুলকায়। আমি জিবরাঈল আ: কে জিজ্ঞেস করলাম, এ সকল লোকদের পরিচয় কি ? জিবরাঈল (আ:) বললেন, তারা সেই সমস্ত লোক যারা মানব দেহের গোশত ভক্ষণ করতো। অর্থাৎ ( গীবত করতো)। এবং তাদের ইযযত -আব্রু নিয়ে ছিনি বিনি খেলত। [ মিশকাতুল মাসাবিহ ২/৭২৫,হাদিস ৪৭৯২ ]

হযরত আসমা বিনতে ইয়াজিদ রা: বলেন,রাসুল (স:) ইরশাদ করেছেন, যদি কোন মুসলমান অপর মুসলিম ভাইয়ের অনুপস্থিথিতে তার গোশত খাওয়া থেকে ( গীবত করা থেকে) বিরত থাকে আল্লাহ তাআলা তাকে দোজখের শাস্তি থেকে বাঁচিয়ে দিবেন। [ মিশকাতুল মাসাবিহ ২/৭১৮,হাদিস ৪৭৩৫ ]

দেখলেন তো গীবতের পরিনাম কত ভয়াবহ ! অনেকে এমন ভাবে অন্যের গীবত করে মনে হয় এটা কোন গুনাহই না। নরমাল ভাবেই গীবত করে থাকে। অথঅথচ আল্লাহর রাসুল (স:) গীবতকে যিনার চাইতেও বেশি পাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সকলের এই জঘন্য গোনাহ থেকে ফিরে আসতে হবে। নয়তো মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষনকারী হিসেবে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে। আল্লাহ সবাইকে গীবত করা থেকে বেচে থাকার তৌফিক দান করুক।