প্রত্যেক নামাজের পূর্বে মেসওয়াক করাকে ওয়াজিব করে দিতাম

মেসওয়াক করা হলো খাস সুন্নতের অর্ন্তভুক্ত
“আমার উম্মতের জন্য যদি কষ্ট না হতো তাহলে আমি প্রত্যেক নামাজের পূর্বে মেসওয়াক করাকে ওয়াজিব করে দিতাম।”
(হাদিস শরীফ)

 

যে গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করা সুন্নত
হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিসওয়াক হিসেবে পিলু, যয়তুন ও খেজুর গাছের ডাল ব্যবহার করেছেন। এছাড়াও তিক্ত জাতীয় গাছের ডাল ব্যবহার করেছেন, যেমনঃ- নিম, ভাইট ইত্যাদি।

 

মেসওয়াকের মাপ
মেসওয়াক প্রত্যেক মেসওয়াককারীর কণিষ্ঠ অঙ্গুলির ন্যায় মোটা হওয়া ও তার হাতের আধ হাত বা এক বিঘৎ পরিমাণ লম্বা হওয়া মুস্তাহাব।

 

মেসওয়াক ধরার সুন্নতী নিয়মঃ
মেসওয়াক করার সময় মেসওয়াক এমন ভাবে ধরতে হবে যেন মেসওয়াককারীর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি মেসওয়াকের নীচ দিকে প্রায় মাঝ বরাবর থাকে। আর কনিষ্ঠা অঙ্গুলি দ্বারা মেসওয়াকের নীচে পিছনের দিকে ধরবে। আর তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা এ তিনটি অঙ্গুলি মেসওয়াকের উপরে রেখে মেসওয়াক করা সুন্নত এবং মেসওয়াক করার সময় মুখের লম্বালম্বিভাবে মেসওয়াক করা ও বসে বসে মেসওয়াক করা হলো খাস সুন্নতের
অর্ন্তভুক্ত।

 

মেসওয়াক করার ফজিলত
“হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত – তিনি বলেন, মেসওয়াক করে নামাজ পড়া মেসওয়াকবিহীন নামাজের চেয়ে পচাঁত্তর গুণ বেশী সওয়াব পাওয়া যায়।” (আবু নঈম)
“হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) হতে বর্ণিত -তিনি বলেন, মেসওয়াক মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের আরোগ্য দানকারী।” (ফেরদৌস)
“হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত – রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের জন্য মেসওয়াক ব্যবহার করা অপরিহার্য। কারণ এতে মুখের পবিত্রতা হাসিল হয় এবং আল্লাহ্ পাক-এর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।” (বোখারী শরীফ)
এছাড়াও মেসওয়াকের মধ্যে ৭২টি উপকারীতা রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো মৃত্যুর সময় কলেমা নছীব হওয়া।

অন্যটি হচ্ছে মেসওয়াককারীর সাথে ফেরেশ্তাগণ মুছাফাহা করা।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে মেসওয়াক ব্যবহার করার মত তাওফিক দান করুন।” আমীন

Author Details

Hard work can bring a smile on your face.

Related Posts

4 weeks ago

হাদিস অনুযায়ী কিয়ামত কখন সংঘঠিত হবে জেনে নিন

আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিসে জনসম্মুখে কিছু আলোচনা করছিলেন। ইতোমধ্যে তাঁর...

Post thumbnail
9 months ago

যে ব্যক্তি মানুষ হাসানোর জন্য মিথ্যা বলে তার জন্য ধ্বংস!

মিথ্যা ইসলামে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হারাম গোনাহগুলির অন্যতম। মিথ্যা বলা মুনাফিকের অন্যতম চিহ্ন। মিথ্যা সর্বাবস্থায় হারাম। সবচেয়ে জঘন্যতম মিথ্যা হলো আল্লাহ...

Leave a Reply

Comment has been close by Administrator!