শব-ই বরাতের সুন্নত আমলসমূহ

শব-ই বরাতের সুন্নত আমলসমূহ

১। পনেরই শাবানের রাতে কবরস্থানে যাওয়া এবং কোন প্রকার আবশ্যকতা এবং গুরুত্ব দেওয়া ব্যতীত দলবদ্ধ না হয়ে সেখানে গিয়ে কবর জিয়ারত করা এবং মুর্দারের জন্য দুআ ও ক্ষমা প্রার্থনা কর। যদি দান খয়রাত ইত্যাদির মাধ্যমে সওয়াব পাঠানো হয় তাহলেও কবরে সওয়াব পৌঁছবে। তবে শরীয়তের সীমালংঘন করে প্রচলিত প্রথার অনুসরণ করবে না। শরীয়তের সীমার ভিতর থেকে করতে হবে।

২। শবে বরাতে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদত করবে। জামাত ব্যতীত এবং সংখ্যা নির্দিষ্ট করা ব্যতীত নফল নামায পড়বে। কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করবে এবং শুনবে , রাসূলের প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করবে। নিজের জন্য এবং সমস্ত মুসলমানের জন্য দুআ করবে। নিজের গুনাহের জন্য তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করবে।

বিশেষ করে ঐসব গুনাহ থেকে তওবা করবে যেগুলো বিদ্যমান থাকার কারণে এ বরকতপূর্ণ ও পুন্যময় রাতে দুআ কবুল হয় না।

আর যে ব্যক্তি দীর্ঘ লম্বা নামায পড়তে ইচ্ছুক সে যেন সালাতুত তাসবিহ নামায পড়ে এবং আল্লাহর ভয়ের সংগে ক্রন্দন করে। নিজ মাতা পিতা ছেলে মেয়েদের জন্য দুআ করবে। নিজের এবং সমস্ত জাতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য আল্লাহর দরবারে দুআ করবে।

৩। শবে বরাতের পরের দিন অর্থাৎ ১৫ তারিখ নফল রোজা রাখবে। যেমন হাদীস শরীফে ইরশাদ করেছেন قوموا ليلها وصوموا نهارها
অর্থ- শবে বরাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত করবে এবং পরের দিন রোজা রাখবে এ তিনটি আমল রাসূল ( সা . ) থেকে প্রমাণিত এবং সুন্নাত হিসাবে আদায় করা উত্তম।

টীকাঃ- অনেক জায়গায় শবে বরাতে জাগ্রত থাকার জন্য ফরজের চেয়ে অধিক গুরুত্ব দিয়ে মানুষকে একত্রিত করার জন্য আহ্বান করা হয়। একসাথে সম্মিলিতভাবে জাগ্রত থেকে ইবাদত করা যদিও সহজ কিন্তু নফল ইবাদতের জন্য এরূপ আহ্বান করে মুসল্লিগণকে জমা করা নিষেধ।

তাছাড়া কথা অনুযায়ী মসজিদসমূহে সম্মিলিতভাবে দলবদ্ধভাবে জাগ্রত থাকাকে ফোকাহায়ে কেরাম নিষেধ করেছেন , মাকরুহ বলেছেন।

হানাফী মাজহাবের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফতুয়ার গ্রন্থ ফতুয়ায়ে শামীতে বলা হয়েছে , দুই ঈদের রাতে এবং শবে বরাতে এবং রমজানের শেষ ১০ রাতে এবং জিলহজ্জ্ব মাসের প্রথম ১০ দিনের রাতে জাগ্রত থেকে একা একা পৃথকভাবে ইবাদত করাকে মোস্তাহাব ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ নফল ইবাদত একা একা ঘরে পড়া উত্তম।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

Hossain Ahmed

এই লেখক তার সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই লিখেননি