গুনাহের ক্ষতিসমুহ।

গুনাহের ক্ষতিসমুহ।

এক,
হাফেজ , হাফেজারা সাবধান!
কুরআন চর্চা না করাটাই গুনাহ, এই গুনাহ কুরআন ভুলে যাওয়ার কারণ।

উদাহরণ- ১
عَنْ أَبِيْ مُوْسَى عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ تَعَاهَدُوا الْقُرْآنَ فَوَالَّذِيْ نَفْسِيْ بِيَدِهِ لَهُوَ أَشَدُّ تَفَصِّيًا مِنَ الإِبِلِ فِيْ عُقُلِهَا.

আবূ মুসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা কুরআনের প্রতি লক্ষ্য রাখবে। আল্লাহ্‌র কসম! যাঁর হাতে আমার জীবন! কুরআন বাঁধন ছাড়া উটের চেয়েও দ্রুত গতিতে দৌড়ে যায়।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫০৩৩

জ্ঞাতব্য: কেউ যদি চর্চা অব্যাহত রেখে কুরআন ভুলে যায় সেক্ষেত্রে সে গুনাহগার হবেনা।

উদাহরণ- ২
عن أبي العالية – رحمه الله – أنَّه قال: «كنَّا نَعُدُّ من أعظم الذُّنوب، أن يتعلَّم الرَّجل القرآن ثمَّ ينام عنه، حتَّى ينساه
আবুল আলিয়া রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমরা এটাকে বড় অপরাধ হিসেবে গন্য করতাম যে কোন ব্যক্তি কুরআন শিখে ঘুমিয়ে(গাফেল থাকে) থাকে যার ফলে সে কুরআন ভুলে যায়
رواه أحمد في «الزهد» (1/ 303)
আয যুহদ্ – খন্ড-১ পৃষ্ঠা-৩০৩

জ্ঞাতব্য:
যারা দশটা, বিশটা সুরা মুখস্থ করেছেন আপনারাও কিন্ত চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।

দুই,
গুনাহ রিজিক থেকে বঞ্চিত করে।
উদাহরণ- ১
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا اللَّهَ وَأَجْمِلُوا فِي الطَّلَبِ فَإِنَّ نَفْسًا لَنْ تَمُوتَ حَتَّى تَسْتَوْفِيَ رِزْقَهَا وَإِنْ أَبْطَأَ عَنْهَا فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَجْمِلُوا فِي الطَّلَبِ خُذُوا مَا حَلَّ وَدَعُوا مَا حَرُمَ ‏”‏ ‏.‏

জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, হে লোকসকল! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং উত্তম পন্থায় জীবিকা অন্বেষণ কর। কেননা কোন ব্যক্তিই তার জন্য নির্ধারিত রিযিক পূর্ণরূপে না পাওয়া পর্যন্ত মরবে না, যদিও তার রিযিক প্রাপ্তিতে কিছু বিলম্ব হয়। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং উত্তম পন্থায় জীবিকা অন্বেষণ কর, যা হালাল তাই গ্রহন কর এবং যা হারাম তা বর্জন কর।
নানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২১৪৪

উদাহরণ- ২
ولا يحملَنَّ أحدَكم استبطاءُ الرزق أن يطلبه بمعصيةٍ
রিজিকের অন্বেষণ তোমাদের কে যেন গুনাহের মাধ্যমে তা অন্বেষণ করতে উদ্ধুদ্ধ না করে।
সহিহুল জামে -২০৮৫

তিন,
গুনাহ ফেরেশতাদের দুআ থেকে বঞ্চিত করে।
যারা ধারবাহিকভাবে গুনাহ করতেই থাকে, তাওবা না করে তারা ফেরেশতার দূআ পায়না।

اَلَّذِیۡنَ یَحۡمِلُوۡنَ الۡعَرۡشَ وَ مَنۡ حَوۡلَہٗ یُسَبِّحُوۡنَ بِحَمۡدِ  رَبِّہِمۡ وَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِہٖ وَ یَسۡتَغۡفِرُوۡنَ  لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ۚ رَبَّنَا وَسِعۡتَ کُلَّ  شَیۡءٍ رَّحۡمَۃً  وَّ عِلۡمًا فَاغۡفِرۡ  لِلَّذِیۡنَ تَابُوۡا وَ اتَّبَعُوۡا سَبِیۡلَکَ وَ قِہِمۡ  عَذَابَ  الۡجَحِیۡمِ ﴿۷﴾
যারা আরশকে ধারণ করে এবং যারা এর চারপাশে রয়েছে, তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করে এবং তাঁর প্রতি ঈমান রাখে। আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা চেয়ে বলে যে, ‘হে আমাদের রব, আপনি রহমত ও জ্ঞান দ্বারা সব কিছুকে পরিব্যপ্ত করে রয়েছেন। অতএব যারা তাওবা করে এবং আপনার পথ অনুসরণ করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আর জাহান্নামের আযাব থেকে আপনি তাদেরকে রক্ষা করুন’।
সুরা গাফির-৭

চার,
গুনাহ করতে করতে মানুষ নিজেকেই ভুলে যায়, (তাওবা করতে ভুলে যায়)

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ  وَ لۡتَنۡظُرۡ  نَفۡسٌ مَّا قَدَّمَتۡ لِغَدٍ ۚ وَ اتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ  خَبِیۡرٌۢ   بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ ﴿۱۸﴾
হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর; আর প্রত্যেকের উচিত চিন্তা করে দেখা সে আগামীকালের জন্য কি প্রেরণ করেছে; তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা যা কর নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।
হাশর-১৮

وَ لَا تَکُوۡنُوۡا کَالَّذِیۡنَ نَسُوا اللّٰہَ فَاَنۡسٰہُمۡ  اَنۡفُسَہُمۡ ؕ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ ﴿۱۹﴾
তোমরা তাদের মত হইও না, যারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল ফলে আল্লাহও তাদেরকে আত্মবিস্মৃত করে দিয়েছিলেন; আর তারাই হল ফাসিক।
হাশর-১৯

পাঁচ,
গুনাহ মানুষ কে নিস্ব বানিয়ে দেয়,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ أَتَدْرُونَ مَا الْمُفْلِسُ ‏”‏ ‏.‏ قَالُوا الْمُفْلِسُ فِينَا مَنْ لاَ دِرْهَمَ لَهُ وَلاَ مَتَاعَ ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ إِنَّ الْمُفْلِسَ مِنْ أُمَّتِي يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلاَةٍ وَصِيَامٍ وَزَكَاةٍ وَيَأْتِي قَدْ شَتَمَ هَذَا وَقَذَفَ هَذَا وَأَكَلَ مَالَ هَذَا وَسَفَكَ دَمَ هَذَا وَضَرَبَ هَذَا فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ وَهَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْضَى مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ فَطُرِحَتْ عَلَيْهِ ثُمَّ طُرِحَ فِي النَّارِ ‏”‏ ‏
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা কি বলতে পার অভাবী লোক কে? তাঁরা বললেন, আমাদের মাঝে যার দিরহাম (টাকা কড়ি) ও ধন-সম্পদ নেই সে তো অভাবী লোক। তখন তিনি বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে সে প্রকৃত অভাবী লোক, যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন সলাত, সাওম ও যাকাত নিয়ে আসবে; অথচ সে এ অবস্থায় আসবে যে, সে কাউকে গালি দিয়েছে, কাউকে অপবাদ দিয়েছে, অমুকের সম্পদ ভোগ করেছে, অমুককে হত্যা করেছে ও আরেকজনকে প্রহার করেছে। এরপর সে ব্যক্তিকে তার নেক ‘আমাল থেকে দেয়া হবে, অমুককে নেক ‘আমাল থেকে দেয়া হবে। এরপর যদি পাওনাদারের হাক্ব তার নেক ‘আমাল থেকে পূরণ করা না যায় সে ঋণের পরিবর্তে তাদের পাপের একাংশ তার প্রতি নিক্ষেপ করা হবে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৪৭৩

ছয়,
গুনাহ মানুষ কে এবং তার সম্পদ কে ধংস করে।

اِنَّ قَارُوۡنَ کَانَ مِنۡ قَوۡمِ  مُوۡسٰی فَبَغٰی عَلَیۡہِمۡ ۪ وَ اٰتَیۡنٰہُ مِنَ الۡکُنُوۡزِ مَاۤ  اِنَّ مَفَاتِحَہٗ  لَتَنُوۡٓاُ بِالۡعُصۡبَۃِ  اُولِی الۡقُوَّۃِ ٭ اِذۡ  قَالَ  لَہٗ  قَوۡمُہٗ  لَا تَفۡرَحۡ  اِنَّ اللّٰہَ  لَا یُحِبُّ الۡفَرِحِیۡنَ ﴿۷۶﴾
নিশ্চয় কারূন ছিল মূসার কওমভুক্ত। অতঃপর সে তাদের উপর ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে। অথচ আমি তাকে এমন ধনভান্ডার দান করেছিলাম যে, নিশ্চয় তার চাবিগুলো একদল শক্তিশালী লোকের উপর ভারী হয়ে যেত। স্মরণ কর, যখন তার কওম তাকে বলল, ‘দম্ভ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ দাম্ভিকদের ভালবাসেন না’। আল কাসাস-৭৬

وَ ابۡتَغِ  فِیۡمَاۤ  اٰتٰىکَ اللّٰہُ  الدَّارَ الۡاٰخِرَۃَ  وَ لَا تَنۡسَ نَصِیۡبَکَ مِنَ الدُّنۡیَا وَ اَحۡسِنۡ کَمَاۤ  اَحۡسَنَ اللّٰہُ  اِلَیۡکَ وَ لَا تَبۡغِ الۡفَسَادَ فِی الۡاَرۡضِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ  لَا یُحِبُّ الۡمُفۡسِدِیۡنَ ﴿۷۷﴾
আর আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন তাতে তুমি আখিরাতের নিবাস অনুসন্ধান কর। তবে তুমি দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না। তোমার প্রতি আল্লাহ যেরূপ অনুগ্রহ করেছেন তুমিও সেরূপ অনুগ্রহ কর। আর যমীনে ফাসাদ করতে চেয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ ফাসাদকারীদের ভালবাসেন না’।
কাসাস-৭৭

قَالَ  اِنَّمَاۤ   اُوۡتِیۡتُہٗ  عَلٰی  عِلۡمٍ عِنۡدِیۡ ؕ اَوَ لَمۡ یَعۡلَمۡ اَنَّ اللّٰہَ  قَدۡ اَہۡلَکَ مِنۡ قَبۡلِہٖ مِنَ الۡقُرُوۡنِ مَنۡ ہُوَ اَشَدُّ مِنۡہُ  قُوَّۃً وَّ اَکۡثَرُ جَمۡعًا ؕ وَ لَا یُسۡـَٔلُ عَنۡ ذُنُوۡبِہِمُ  الۡمُجۡرِمُوۡنَ ﴿۷۸﴾
সে বলল, ‘আমি তো এই ধনভান্ডার প্রাপ্ত হয়েছি আমার কাছে থাকা জ্ঞান দ্বারা’। সে কি জানত না যে, আল্লাহ তার পূর্বে বহু প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়েছেন, যারা ছিল তার থেকে শক্তিমত্তায় প্রবলতর এবং জনসংখ্যায় অধিক। আর অপরাধীদেরকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে না।
কাসাস-৭৮

فَخَرَجَ عَلٰی قَوۡمِہٖ فِیۡ زِیۡنَتِہٖ ؕ قَالَ الَّذِیۡنَ یُرِیۡدُوۡنَ الۡحَیٰوۃَ  الدُّنۡیَا یٰلَیۡتَ لَنَا مِثۡلَ مَاۤ  اُوۡتِیَ  قَارُوۡنُ ۙ اِنَّہٗ  لَذُوۡ حَظٍّ عَظِیۡمٍ ﴿۷۹﴾
অতঃপর সে তার কওমের সামনে জাঁকজমকের সাথে বের হল। যারা দুনিয়ার জীবন চাইত তারা বলল, ‘আহা! কারূনকে যেমন দেয়া হয়েছে আমাদেরও যদি তেমন থাকত! নিশ্চয় সে বিরাট সম্পদশালী।’
কাসাস-৭৯

وَ قَالَ الَّذِیۡنَ  اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ وَیۡلَکُمۡ ثَوَابُ اللّٰہِ خَیۡرٌ  لِّمَنۡ  اٰمَنَ وَ عَمِلَ صَالِحًا ۚ وَ لَا  یُلَقّٰہَاۤ   اِلَّا الصّٰبِرُوۡنَ ﴿۸۰﴾

আর যারা জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছিল, তারা বলল, ‘ধিক তোমাদেরকে! আল্লাহর প্রতিদানই উত্তম যে ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তার জন্য। আর তা শুধু সবরকারীরাই পেতে পারে।’
কাসাস-৮০

فَخَسَفۡنَا بِہٖ وَ بِدَارِہِ  الۡاَرۡضَ ۟ فَمَا  کَانَ لَہٗ  مِنۡ فِئَۃٍ  یَّنۡصُرُوۡنَہٗ  مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ٭ وَ مَا  کَانَ مِنَ الۡمُنۡتَصِرِیۡنَ ﴿۸۱﴾
অতঃপর আমি কারূন ও তার প্রাসাদকে মাটিতে দাবিয়ে দিলাম। তখন তার জন্য এমন কোন দল ছিল না, যে আল্লাহর মোকাবিলায় তাকে সাহায্য করতে পারত এবং সে নিজেও নিজেকে সাহায্য করতে সক্ষম ছিল না।
কাসাস-৮১

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

Hossain Ahmed

এই লেখক তার সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই লিখেননি