ইমাম মাহ্‌দির আগমন

হজরত মাহ্‌দির আবির্ভাব সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতের চৌদ্দশো বছরের স্থির বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি হলো, পৃথিবীর শেষ যুগে আগমন করে তিনি মুসলিম উম্মাহ্‌কে নেতৃত্ব দেবেন এবং ‘ জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ’র মাধ্যমে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়িত করবেন, যার ফলে সমগ্র পৃথিবীতে শান্তিনি রাপত্তা ও সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

তবে একটি কথা মনে রাখতে হবে যে, ইনি শিয়াদের ইমাম মাহদি হাসান আসকারি নন, যার সম্পর্কে তাদের বিশ্বাস হলো, তিনি সামারা পার্বত্যাঞ্চল থেকে আত্মপ্রকাশ করবেন। এ – বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমগণ অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেগুলোতে এই দৃষ্টিভঙ্গিকে ভুল ও অবাস্তব প্রমাণিত করা হয়েছে।

হজরত মাহ্‌দির বংশ<

عن أم سلمة رضي الله عنها قالت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول المهدئ من عترتي من ولد فاطمة

হজরত উম্মে সালামা ( রাযি . ) বর্ণনা করেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘ মাহ্‌দি আমার পরিবারভুক্ত — ফাতেমার বংশধর।

عن أبي إسحق قال قال علي رضي الله عنه ونظر إلى إبنه الحسن فقال إن ابني هذا سيد كما سماه النبي صلى الله عليه وسلم وسيخرج من صلبه رجل يسمى باسم نبيكم يشبهه في الخلق ولا يشبهه في الخلق ثم ذكر قصة يملأ الأرض عدلا

হজরত আবু ইসহাক ( রহ . ) বর্ণনা করেন , হজরত আলী ( রাযি . ) স্বীয় পুত্র হজরত হাসান ( রাযি . ) – এর প্রতি তাকিয়ে বলেছিলেন, ‘ আমার এই পুত্র সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি বলেছিলেন, এ জান্নাতি যুবকদের নেতা হবে। তেমনি অদূর ভবিষ্যতে এর বংশে একব্যক্তি জন্মলাভ করবে, যার নাম তোমার নবীর নাম হবে। স্বভাব ও  চরিত্রে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুরূপ হবে ; তবে বাহ্যিক আকার – গঠনে তাঁর মতো হবে না।
তারপর হজরত আলী ( রাযি . ) তাঁর কর্তৃক পৃথিবীকে সুবিচার দ্বারা ভারে দেওয়ার বিবরণ প্রদান করেন।

عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه المهدي مني أجلى الجبهة أقنى الأنف يملأ الأرض قسطا وعدلا كما ملئت جورا وظلما يملك سبع سنين

হজরত আবুসাঈদ খুদরি ( রাযি . ) বর্ণনা করেন , আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ মাহ্‌দি আমার বংশ থেকে আবির্ভূত হবে। তার কপাল হবে উজ্জ্বল ও চওড়া আর নাক হবে উঁচু সে পৃথিবীকে ন্যায়পরায়ণতা ও সুবিচার দ্বারা ভরে দেবে, যেমনটি পূর্বে অবিচার দ্বারা পরিপূর্ণ থাকবে। সে সাত বছর পৃথিবীর শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকবে। হজরত মাহ্‌দি পিতার দিক থেকে হবেন হজরত হাসান ( রাযি . ) – এর বংশধর আর মায়ের দিক থেকে হজরত হুসাইন ( রাযি . ) – এর বংশধর।

হজরত মাহদির আগমনের পূর্বে পৃথিবীর অবস্থা এবং নবীজির ভবিষ্যদ্বাণী

عن حذيفة بن اليمان رضي الله عنه أنه قال والله ما أدري أنسي أصحابي أم تناسوا والله ماترك رسول الله صلى الله عليه وسلم من قائد فتنة إلى أن تنقضي الدنيا يبلغ من معه ثلاث مائة فصاعدا إلا قد سماه لنا باسمه واسم أبيه واسم قبيلته

হজরত হোযায়ফা ইবনুল ইয়ামান ( রাযি . ) বলেন, আমি আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি, আমি জানি না, আমার এই বন্ধুরা (ছাহাবা কেরাম ) ভুলে গেছে, নাকি স্মরণ থাকা সত্ত্বেও ভুলে যাওয়ার ভান ধরে আছে। আল্লাহর কসম ! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেয়ামত পর্যন্ত জন্মলাভ করবে এমন একজনও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীর নাম অনুল্লেখ রাখেননি। তিনি প্রতিজন নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীর কথা উল্লেখ করার সময় তার নিজের, তার পিতার ও তার গোত্রের নাম আমাদের বলে দিয়েছেন।

عن حذيفة رضي الله عنه قال قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم قائما فما ترك شيئا يكون في مقامه ذالك إلى قيام الساعة إلا حدثه حفظه من حفظة نسيه من نسية قد علمه أضحابه هؤلاء وأنه ليكون منه الشيئ فأذكره كما يذكره الرجل وجه الرجل إذا غاب عنه ثم إذا راه عرفه

হজরত হোযায়ফা ( রাযি . ) বর্ণনা করেন , আল্লাহর রাসূল আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন। সেই দাঁড়ানো অবস্থায় তিনি কেয়ামত পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত হবে এমন একটি ঘটনাও বর্ণনা করতে বাদ রাখেননি। যারা পেরেছে, তারা নবীজির সেই বক্তব্যটি মুখস্থ করে রেখেছে আর যারা পারেনি, তারা ভুলে গেছে। তাঁর এই ছাহাবাগণ সেই ঘটনাটি জানে। আর অবস্থা এই যে, যখনই সেই ঘটনাটি আলোচনায় ওঠে, তখন আমার সব কথা মনে পড়ে যায়, যেমন- মানুষ কোনো মানুষের অনুপস্থিতিতে তার মুখাবয়ব স্মরণ রাখে আর যখনই চোখের সামনে দেখে, সঙ্গে – সঙ্গে তাকে চিনে ফেলে।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

Hossain Ahmed

এই লেখক তার সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই লিখেননি