রমজান উপলক্ষে দরদী আহবান

এক,
তারাবীহ বিশ রাকাত এটাই সুন্নাতে মুতাওয়ারিছা, (চলে আসা সুন্নাহ)
এবং ১২৮৪ হিজরী পর্যন্ত ঝগড়া বিহিন উম্মাহ এটার উপরই আমল করেছেন।
(খুলাফায়ে রাশেদার আমলও এটা
মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-৫/২২৩
ফাতহুল বারী-৪/৪৩৬
মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদীস নং-১৪৪৩
মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদীস নং-১৪৪৩, মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-৩৮০, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৪৩৯৪ সিয়ারু আলামিন নুবালা-১/৪০০)

দুই,
দ্রুত গতিতে তারাবীর বিরোধীতা করতে গিয়ে 4g, 5g ইত্যাদি লিখে তাহাজ্জুদ কে তারাবীহ বানানোর দাবি টা অযৌক্তিক। ,,,যারা হক আদায় না করে  তারাবীহ পড়ে এটা তাদের দোষ,
আরে ভাই! কেউ যদি এশার সালাত দ্রুত গতিতে আদায় করে তাহলে কি রাকাত সংখ্যা কমাতে হবে?!

তিন,
আসুন সবাই ধীরস্থিরভাবে তারাবীহ বিশ রাকাত পড়ি, তাহাজ্জুদ আট রাকাত পড়ি। এতে ঝগড়া ও থাকবেনা। বরং সওয়াবের পাল্লা ভারী হবে।
নিচের হাদীসের উপর পূর্ন আমল হবে ইন শা আল্লাহ।
وَسَتَرَوْنَ مِنْ بَعْدِي اخْتِلاَفًا شَدِيدًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ
ইরবাদ বিন সারিয়াহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
আমার পরে অচিরেই তোমরা মারাত্মক মতভেদ লক্ষ্য করবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদ্বীনের সুন্নাত অবশ্যই অবলম্বন করবে, তা দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরবে।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৪২

অতএব,
বোকার মতো তর্ক করে সিয়ামগুলো নষ্ট করবনা।
عَنْ أَبِي صَالِحٍ الزَّيَّاتِ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ اللهُ كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلاَّ الصِّيَامَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ وَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَصْخَبْ فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ يَفْرَحُهُمَا إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ وَإِذَا لَقِيَ رَبَّهُ فَرِحَ بِصَوْمِهِ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন, সওম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তাঁর নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য। তাই আমি এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি কেউ তাঁকে গালি দেয় অথবা তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি একজন সায়িম। যার কবজায় মুহাম্মাদের প্রাণ, তাঁর শপথ! অবশ্যই সায়িমের মুখের গন্ধ আল্লাহ্‌র নিকট মিস্‌কের গন্ধের চাইতেও সুগন্ধি। সায়িমের জন্য রয়েছে দু’টি খুশী যা তাঁকে খুশী করে। যখন সে ইফতার করে, সে খুশী হয় এবং যখন সে তাঁর রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সওমের বিনিময়ে আনন্দিত হবে।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৯০৪

চার.
কুরআনের সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরি করেন,
মর্যাদা বাড়বে ইন শা আল্লাহ,
‏.‏ قَالَ عُمَرُ أَمَا إِنَّ نَبِيَّكُمْ صلى الله عليه وسلم قَدْ قَالَ ‏ “‏ إِنَّ اللَّهَ يَرْفَعُ بِهَذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا وَيَضَعُ بِهِ آخَرِينَ ‏” ‏.

উমার (রাঃ) বললেনঃ তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা এ কিতাব দ্বারা অনেক জাতিকে মর্যাদায় উন্নীত করেন আর অন্যদের অবনত করেন।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৭৮২

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

ইসলাম প্রিয়

এই লেখক তার সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই লিখেননি