আর নয় হতাশা, আসুন ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে

প্রত্যেক মানুষের অনেক স্বপ থাকে। থাকে স্বপ্ন পূরণে চেষ্টা।কিন্তু দুনিয়াতে কারো সকল স্বপ্ন বা ইচ্ছা পূরণ হয় না।আর স্বপ্ন বা ইচ্ছে পূরণ না হলে অথবা কাজের আশানুরূপ ফল না পেলে যে মানসিক অবসাদের সৃষ্টি হয় তাকে হতাশা বলে।সাধারণত হতাশা কম বেশি সবার মধ্যেই থাকে।তথাপি হতাশাটা অনেকের ক্ষেত্রে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।

কারো কারো আত্মহত্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এটা।অনেকে হতাশ হলে সাময়িক স্বস্তি পাওয়ার জন্য মাদক সেবন করে। ভুলে যায় যে,এই মাদকাসক্তি তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে। অনেকে আবার হতাশ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।এই আত্মহত্যাকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও পুলিশ সদর দফতরের তথ্য মতে,দেশে প্রতি বছর গড়ে ১০ হাজার মানুষ এবং প্রতিদিন গড়ে ২৮ জন আত্মহত্যা করছেন। যাদের একটি বড় অংশের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।(বাংলাদেশ প্রতিদিন,৬মে ২০১৮)।

তাছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
নয় জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।(নয়া দিগন্ত২৯- ১১-১৮)
যা আমাদের সবার জন্য একটি দুঃসংবাদ।

জয়-পরাজয়,পাওয়ার -না পাওয়া, সাফল্য -ব্যর্থতা মানুষের জীবনে আসতেই পারে।তাই বলে কি হতাশ হয়ে আত্মহত্যা করতে হবে!আত্মহত্যা কোন সমস্যার সমাধান হতে পারে না।আর আত্মহত্যাকে কোন ধর্মই সমর্থন করে না।ইসলামের নির্দেশনা হচ্ছে,স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ হলে হতাশ হওয়া যাবে না।ব্যর্থতার পরেই আসবে সফলতা।যেমনি ভাবে রাত পোহালেই আসে দিন।আর ব্যর্থতায় মর্মাহত লোকদের সান্ত্বনা দিয়ে আল্লাহ বলেন,তোমরা হতাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না।তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও। (সূরা আলে ইমরান ১৩৯)

ইসলাম ধর্মে হতাশার কোন স্থান নেই।যারা জীবনের প্রথম পর্যায়ে খারাপ কাজ করেছে।কিন্তু পরবর্তীতে নিজের কৃতকর্মের কথা স্মরণ করে মর্মপীড়ায় ভোগছেন।তাদেরকেও আল্লাহ তায়ালা নিরাশ করেন নি।তিনি তাদেরকে সুপথে ফিরে আসার জন্য ক্ষমার সুসংবাদ দিয়ে বলেন,‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের সব গোনাহ মাফ করবেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।(সুরা যুমার : আয়াত ৫৩)

অনেকে হতাশ হয়ে মাদক সেবন করে।মাদক সেবনের মাধ্যমে হয়ত সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যায়।কিন্তু হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না।আর মাদক সেবন ইসলাম ধর্মে হারাম।তাই যারা পাওয়া,না-পাওয়া,বাধা-­ বিপত্তিসহ নানা কারণে হতাশ হয়ে পরেছে তাদের উচিত মাদক সেবনের মত ঘৃণিত কাজ না করে ধৈর্য্য ধারণ করা এবং নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা।কেননা ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন তাদের মহান অভিবাক আল্লাহ রাব্বুল আলামীন।এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আল্লাহ বলেন,
হে ঈমানদারগণ, তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।(সূরা বাকারা-১৫৩)।আর আল্লাহ তায়ালা যাদের সাথে আছেন,তাদেরকে দুঃখ-কষ্ট ঘায়েল করতে পারে না।

রাসূল( স) হতাশাগ্রস্থ মানুষকে মানসিক প্রশান্তি লাভের জন্য কয়েকটি আমলের নির্দেশনা দিয়েছেন।যা তাদের মনকে সজীব ও সতেজ করবে। তা হলো ‘প্রত্যেক ফরয নামাজের পরে কিছু দু’আ আছে, যে ব্যক্তি ঐগুলো পড়ে বা আমল করে,সে কখনো নিরাশ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তা হলোঃ তেত্রিশবার তাসবীহ (আলহাম্‌দু লিল্লা-হ) পড়া, তেত্রিশবার তাহমীদ (সুবহা-নাল্ল-হ) পাঠ করা এবং চৌত্রিশবার তাকবীর (আল্ল-হু আকবার) পাঠ করা। (সহিহ মুসলিম)

সর্বোপরি আমাদের উচিত,সাময়িক ব্যর্থতা,বাধা বিপত্তি ও না-পাওয়ার বেদনায় হতাশ না হয়ে ধৈর্য্য ধারণ ও মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের উপর ভরসা করা।আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে সহীহ বুঝ দান করুন। আমীন।

 

লেখাটি পাঠিয়েছেন

মোঃ রুহুল আমিন খান 
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।