সফর ও কসর সংক্রান্ত জরুরী মাসায়েল জেনে নিন (পর্ব-১)

মুসাফির কে?

যে ব্যক্তি কমপক্ষে ৪৮মাইল(৭৭.২৪৬৪কিলোমিটার)সফর করার নিয়তে নিজ আবাদীর লোকালয় থেকে বের হয়েছে, সে শরীআতের পরিভাষায় মুসাফির হিসেবে গন্য হবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৯,আসারুস সুনান পৃ: ২৬৩।
মাসআলাঃ৪৮ মাইলের কম সফরের নিয়তে বের হলে মুসাফির হিসাবে গন্য হবে না।–প্রাগুক্ত

 

মাসআলাঃকেউ ৪৮ মাইল সফরের নিয়তে বের হল না। অথচ নিয়ত ব্যতীত সারা দুনিয়া ঘুরে এল । সে মুসাফির হিসাবে গন্য হবে না।-রদ্দুল মুহতার ২/১২১।

 

মাসআলাঃ ৪৮মাইল রাস্তা যত কম সময়েই অতিক্রম করা হোক না কেন (এমনকি ১০মিনিটে অতিক্রম করা হলেও) তা অতিক্রম করার দ্বারা মুসাফির গন্য হবে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে দুরত্বই মুল। সময় বা ক্লান্তি আসা ধর্তব্য নয়।- রদ্দুল মুহতার ২/১২৩।

 

মাসআলাঃ কেউ বাড়ী থেকে কমপক্ষে ৪৮মাইল সফরের নিয়তে বের হল। কিন্তু পথিমধ্যে কোন একটি স্থানে প্রয়োজনের কারনে ১৫দিনের কম থাকার নিয়ত করল। সেখান থেকে আজ যায় কাল যায় করে (টানা ১৫দিন থাকার নিয়ত ব্যতীত) কয়েক বছর থাকলেও সে মুসাফির গন্য হবে। মোটকথা যতক্ষন সে কোন একটি স্থানে টানা ১৫ থাকার নিয়ত না করবে সে মুকীম গন্য হবে না।-হিদায়া ১/১৬৬।

 

অনুরূপভাবে কেউ ৪৮ মাইল বা তার চেয়ে বেশী দুরুত্ব সফর করে গিয়ে কোন স্থানে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করলে সেও মুসাফির হিসাবে গন্য হবে। তবে এক্ষেত্রে উল্লেখিত স্থানটি তার বসতের স্থান ( ওয়াতনে আসলী বা ওয়াতনে ইকামত) না হতে হবে। কেননা নিজস্ব বসতের স্থানে কেউ যত দুর থেকে সফর করে আসুক না কেন সে মুকীম গন্য হবে। -আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৫।

 

মাসআলাঃ কেউ কমপক্ষে ৪৮মাইল সফরের নিয়তে বের হল। কিন্তু পথিমধ্যে কোন জায়গায় ১৫ দিন বা তার বেশী থাকার নিয়ত করল বা রাস্তার মাঝে তার ওয়াতনে আসলী কিংবা ওয়াতনে ইক্বামত এসে গেল তবে সে মুকীম গন্য হবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৯।

 

মুকীমের বসবাসের স্থান দুধরনের হতে পারে-
(১) ওয়াতনে আসলী।
(২) ওয়াতনে ইক্বামত।

 

ওয়াতনে আসলীঃ

মাসআলাঃ ওয়াতনে আসলী মানুষের এমন নিজস্ব বাসস্থানকে বলে যেখানে সে জন্মগ্রহন করেছে অথবা তার পরিবার বসবাস করে অথবা যেখানে সে চিরস্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়ত করেছে।- আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩১।

 

মাসআলাঃ ওয়াতনে আসলীর জন্য বাড়ী,জায়গা ও স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়ত জরুরী।–প্রাগুক্ত

 

মাসআলাঃ ওয়াতনে আসলী একাধিক হতে পরে। যেমন কেউ নতুন করে শহরে বাড়ী করল। আর পূর্ব থেকে তার গ্রামে বাড়ী রয়েছে। এখন সে যদি উভয় বাড়ীতে আসা-যাওয়া করে এবং উভয়টিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়ত করে তবে উভয়টি তার জন্য ওয়াতনে আসলী হবে। -আল বাহরুর রায়েক ২/১৩৬।

 

মোটকথা ওয়াতনে আসলী নির্ধারনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির নিয়তই মূল। সে যদি দুটি স্থানকে ওয়াতনে আসলী বানায় এবং উভয়টিতে স্থায়ীভাবে থাকার নিয়ত করে ( এখানে কিছু দিন ওখানে কিছু দিন) তবে উভয়টি তার জন্য ওয়াতনে আসলী গন্য হবে। -ফাতাওয়া উসমানী ১/৫৪৬।

 

মাসআলাঃ কেউ শহরে চাকুরী করে। সেখানে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। তবে গ্রামে তার বাড়ী রয়েছে। ভবিষ্যতে সেখানে গিয়ে বসবাস করার নিয়ত করেছে । এবং মাঝে-মধ্যে গ্রামে বেড়াতে যায়। তবে তার গ্রামের বাড়ীটি তার জন্য ওয়াতনে আসলী হবে। পক্ষান্তরে যদি উক্ত লোকটি গ্রামের বাড়ীটি তার নিজ বাড়ী হিসাবে বহাল না রাখে এবং পরবর্তিতে সেখানে বসবাসের নিয়ত না থাকে এবং আসা-যাওয়া বন্ধ করে দেয় তবে গ্রামের বাড়ীটি তার জন্য আর ওয়াতনে আসলী থাকবে না। -রদ্দুল মুহতার ২/১৩১।

 

মাসআলাঃ কারো কোন স্থানে শুধু জমিন থাকলে এর দ্বারা তা ওয়াতনে আসলী গন্য হবে না। -আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩১।

 

ওয়াতনে আসলীর হুকুমঃ

মাসআলাঃ ওয়াতনে আসলীতে কেউ মুসাফির হয় না।কেউ ওয়াতনে আসলীতে ১ ঘন্টার জন্য গেলেও মুকীম গন্য হবে। আর সে চার রাকাআত বিশিষ্ট ফরজ নামায চার রাকাআতই পড়বে। কসর জায়েয নেই।-আদ্দুররুল মুখতার ২/৬১৪ (যাকারিয়া)।

 

 

ওয়াতনে ইক্বামতঃ

মাসআলাঃ কেউ কমপক্ষে ৪৮ মাইল সফর করে কোন স্থানে গিয়ে কমপক্ষে ১৫দিন থাকার নিয়ত করলে তা তার জন্য ওয়াতনে ইক্বামত হিসাবে গন্য হবে। ১৫দিনের কম থাকার নিয়ত করলে ওয়াতনে ইকামত হবে না। -আল বাহরুর রায়েক ৪/৩৪১।

 

মাসআলাঃ ওয়াতনে ইক্বামত সফরের দ্বারা বাতিল হয়ে যায়। অর্থাৎ কেউ কোন স্থানে কমপক্ষে ১৫দিন থাকার পরে সেখান থেকে সফর করে (কমপক্ষে ৪৮মাইল দুরুত্ব অতিক্রম করে) চলে এলে তার ওয়াতনে ইক্বামত বাতিল হয়ে যায়। পরে কোন দিন উক্ত স্থানে পূনরায় গেলে ১৫ দিন থাকার নিয়ত ব্যতীত তা তার জন্য ওয়াতনে ইক্বামত হবে না। তবে নতুন করে আবার ১৫দিন থাকার নিয়ত করলে তা তার জন্য ওয়াতনে ইক্বামত হবে। -মারাকিল ফালাহ ১/১৮৭।

মাসআলাঃ কেউ কোন স্থানে সফর করে গিয়ে কমপক্ষে ১৫ দিন থাকল। অতঃপর তার সামানপত্র সেখানে রেখে গিয়ে উক্ত স্থান থেকে চলে গেল। এর পর সেখানে ১৫দিনের কম থাকার নিয়তে গেলেও সে মুকীম গন্য হবে। তবে তার সামানপত্র সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে গেলে কমপক্ষে ১৫ থাকার নিয়ত ব্যতীত সে উক্ত স্থনে মুকীম গন্য হবে না।-বাদায়েউস সানায়ে ১/১০৪, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/১০৮-১১২।

 

মাসআলাঃ বিভিন্ন চাকুরীজীবী ও পেশাজীবীরা শহরে বাসা ভাড়া করে থাকে। তারা গ্রামের বাড়ীতে গেলেও বাসায় সামানপত্র রেখে যায়। কাজেই শহরে তারা মুকীম গন্য হবে। তবে এক্ষেত্রে একবার একটানা ১৫ দিন থাকা শর্ত। -আদ্দুরুরল মুখতার ১/১২৩।

 

মাসআলাঃ কেউ দুই স্থান মিলে ১৫ দিন থাকার নিয়ত করল। তবে প্রতিদিন রাতে সে এক জায়গাতে থাকবে এবং দিনে অন্যত্র অবস্থান করবে।এমতাবস্থায় সে রাতের স্থানে মুকীম হবে এবং পুরো নামায পড়বে।কিন্তু যদি দিনের কর্মস্থল রাতের স্থান থেকে ৪৮ মাইল দুরত্বে হয় তবে দিনের স্থনে সে মুসাফির হবে এবং কসর করবে। আর যদি উভয় স্থানের দুরত্ব কমপক্ষে ৪৮মাইল না হয় তবে উভয় স্থানে পুরো নামায পড়বে। মোটকথা রাতে থাকার স্থান ধর্তব্য হবে। -রদ্দুল মুহতার ২/৬০৭(যাকারিয়া)।

 

ওয়াতনে ইক্বামতের হুকুমঃ

মাসআলাঃআলাঃ ওয়াতনে ইক্বামতে মুসাফির গন্য হবে না। বরং মুকীম গন্য হবে। এবং চার রাকাআত বিশিষ্ট ফরজ নামায চার রাকাআতই পড়বে। কসর জায়েয নেই। -আল বাহরুর রায়েক ৪/৩৪০-৩৪২।

 

মুসাফির কখন থেকে গন্য হবে?

মাসআলাঃ কেউ যখন তার নিজ আবাদীর লোকালয় থেকে (কমপক্ষে ৪৮ মাইল সফরের নিয়তে) বের হয়ে যাবে তখন থেকে সে মুসাফির গন্য হবে। অর্থাৎ তার নিজ আবাদী থেকে বের হওয়ার পূর্বে সে মুসাফির গন্য হবে না।-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৯,আসারুস সুনান পৃ: ২৬৩।

 

মাসআলাঃ ষ্টেশন যদি লোকালয়ের সাথে সংযুক্ত হয় তবে তা আবাদীর মধ্যে গন্য হবে। -আদ্দুরুরল মুখতার ২/৫৫৯-৬০০।

 

যে রাস্তা দিয়ে সফর করবে তা ধর্তব্য হবেঃ

মাসআলাঃযদি কোথাও যাবার দুটি রাস্তা থাকে আর একটি সফরের দুরুত্বে হয় এবং অন্যটি তার চেয়ে কম হয় তবে সফরের দুরুত্বের রাস্তায় গেলে মুসাফির হবে। অন্যটিতে মুসাফির গন্য হবে না। মোটকথা যে রাস্তা দিয়ে গমন করবে তা ধর্তব্য হবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৬

 

আবাদীর সীমানাঃ

মাসআলাঃকোন আবাদীর সীমানা হল, যখন সংযুক্ত বাড়ী-ঘরের পরে ফসলী জমি এসে যায় অথবা বাড়ী-ঘরের মাঝে ১৩৭.১৬ মিটার বা তার চেয়েও বেশী ফাকা থাকে তখন সে ঐ সংযুক্ত ঘর বাড়ীর পর থেকেই মুসাফির গন্য হবে। যদি শহর ও ফেনায়ে শহরের(শহরবাসীর জন্য প্রয়োজনীয় স্থানসমূহ যেমন- কবর স্থান,ঘোড়দৌড় এর জন্য নির্দিষ্ট স্থান) মাঝে ফসলী জমি না থাকে অথবা উভয়ের মধ্যে ১৩৭.১৬ মিটার বা তার চেয়ে বেশী ফাকা না থাকে তবে উক্ত ফেনা অতিক্রম করার পর মুসাফির গন্য হবে। আর যদি উভয়ের মাঝে ফসলী জমি থাকে বা মধ্যবর্তি দুরুত্ব ১৩৭.১৬ মিটার বা তার চেয়ে বেশী হয় তবে উক্ত ফেনা আবাদীর মধ্যে গন্য হবে না। -রদ্দুল মুহতার ২/১২১-১২৩, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৭২

 

মাসআলাঃ শহরের চার পাশে সংযুক্ত বস্তি গুলো শহরের হুকুমে।-রদ্দুল মুহতার ২/১২১

 

মাসআলাঃ ঢাকা শহরের সীমানা হল উত্তরে টঙ্গীব্রিজ, দক্ষিনে বাবু বাজার ব্রিজ,দক্ষিন-পূর্ব দিকে কাচপুর ব্রিজ এবং পশ্চিম দিকে গাবতলী ব্রিজ। অর্থাৎ উল্লেখিত ব্রিজগুলোর পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা সিটির সীমানা। কেননা উল্লেখিত ব্রিজ গুলোর ভিতরের এলাকাগুলো আবাদী ও জনবসতি দ্বারা সংযুক্ত।

 

মুসাফিরের হুকুমঃ

মুসাফির ৪ রাকাআত বিশিষ্ট ফরজ নামায ২ রাকাআত পড়বে। এটাকে কসর নামায বলে। মুসাফিরের জন্য নামাজ কসর করা ওয়াজিব।- রদ্দুল মুহতার ২/১২১-১২৩

শরঈ সফররত অবস্থায় সুবহে সাদিক হয়ে গেলে মুসাফিরের জন্য রোযা না রাখার সুযোগ রয়েছে। সে পরে কাযা করে নিবে। -হিদায়া ১/২২১

মুসাফির তিন দিন তিন রাত মোজার উপর মাসেহ করতে পরে।- হিদায়া ১/৫৭

 

মুসাফিরের নামায সংক্রান্ত মাসায়েলঃ
মুসাফির নামায কিভাবে আদায় করবে?

মাসআলাঃ মুসাফির যোহর,আসর ও এশায় ৪রাকাআত বিশিষ্ট ফরজ নামায ২ রাকাআত করে আদায় করবে। ফজর ও মাগরিব যথা নিয়মে ২ও ৩ রাকাআত করে পড়বে। অনুরূপভাবে বেতর নামাযও তিন রাকাআত পড়বে।-রদ্দুল মুহতার ২/১২১-১২৩,ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৯।

 

মুসাফিরের জন্য জামাআতের হুকুমঃ

মাসআলাঃমুসাফিরের জন্য জামাআতে নামায পড়া ওয়াজিব নয়। বরং মুস্তাহাব। তবে সফর অবস্থায় তাড়াহুড়া না থাকলে জামাআতেই নামায পড়া উচিত। আর ব্যস্ততা বা পেরেশানী থাকলে জামাআত ছেড়ে দেওয়র অনুমতি রয়েছে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮৩,আল বাহরুর রায়েক ১/৩৪৬।

 

মুসাফিরের জন্য সুন্নাতের হুকুমঃ

মাসআলাঃ মুসাফির ব্যস্ততা বা তাড়াহুড়ার সময় ফজরের সুন্নাত ব্যতীত অন্য সুন্নাত ছাড়তে পারবে। যেমন-সুন্নাত পড়লে ছফরের সাথীদের পিছে পড়ে যাবে বা গাড়ি না পাওয়ার আশংকা রয়েছে বা অন্য কোন ক্ষতি হতে পরে। এমতাবস্থায় সুন্নাতকে ছেড়ে দিবে। বড় ওযরের ক্ষেত্রে ফজরের সুন্নাতও ছেড়ে দিতে পারে। তবে কোন ব্যস্ততা না থাকলে সুন্নাত পড়ে নিবে। যেমন-কোথাও সফর করে ৮/১০দিনের জন্য বেড়াতে গেল অথবা গাড়ি ছাড়তে অনেক দেরি হবে অথবা সুন্নাত পড়লে সাথীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। এমতাবস্থায় সুন্নাত পড়ে নিবে।রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরে সুন্নাত পড়তেন। -জামে তিরমিজী হাদীস নং-৫৫১, আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩১, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৯

 

মুসাফির ভুলে বা ইচ্ছায় চার রাকাআত নামায পড়ে ফেললেঃ

মাসআলাঃমুসাফির ভুলে বা ইচ্ছায় (ফরজ নামায ) চার রাকাআত পড়ে ফেললে যদি সে ১ম বৈঠক করে থাকে তবে তার ফরজ আদায় হয়ে যাবে। প্রথম দুই রাকাআত ফরজ ও পরের দুই রাকাআত নফল গন্য হবে। এক্ষেত্রে তার জন্য সিজদায়ে সাহু করা ওয়াজিব। যদি সিজদায় সাহু না করে থাকে তবে উক্ত নামায পূনরায় পড়া ওয়াজিব। আর যদি ১ম বৈঠকে না বসে থাকে তবে পূরো নামায নফল গন্য হবে। ফরজ নামায পূনোরায় পড়তে হবে। উল্লেখ্য যে, ইচ্ছাকৃত চার রাকাআত নামায পড়লে সে গোনাহগার হবে।- আদ্দুরুরল মুখতার ২/১২৩-১৩০,আলবাহরুর রায়েক ২/২২৯,তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫১১,ফাতাওয়া দারুল উলূম ৪/৩১৫।

 

ইমাম মুাসাফির ও মুক্তাদী মুকীম হলেঃ

মাসআলাঃ মুসাফির ইমামের পেছনে মুকীমের এক্তেদা জায়েয আছে।মুসাফির ইমাম যখন দু-রাকাআতে সালাম ফিরাবে তখন মুক্তাদীগণ সালাম না ফিরিয়ে দাড়িয়ে যাবে। এবং বাকি দুই রাকাআত নামায একা একা পড়ে নিবে। তবে সে কোন কিরাআত পড়বে না। বরং সূরা ফাতেহা পরিমান দাড়িয়ে রুকু-সিজদা করবে কেননা সে লাহেক।- আদ্দুররুল মুখতার ২/১২১-১২৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪২।

 

মাসআলাঃ ইমাম মুসাফির হলে তার জন্য উত্তম হল সে সালাম ফিরানোর পর এলান করবে আমি মুসাফির আপনারা আপনাদের অবশিষ্ট নামায পুরা করুন। -আদ্দুররুল মুখতার ২/৬১২ (যাকারিয়া)।

 

Author Details

Hard work can bring a smile on your face.

Related Posts

Post thumbnail
8 months ago

সফর ও কসর সংক্রান্ত জরুরী মাসায়েল জেনে নিন (শেষ পর্ব)

শুধু মাত্র মুক্তাদী মুসাফির হলেঃ মাসআলাঃ ইমাম মুকীম এবং মুক্তাদী মুসাফির হলে সে ইমামের অনুকরনে চার রাকাআতই পড়বে।–আল-মাবসূত ২/৯৪।  ...

Leave a Reply

Comment has been close by Administrator!